| বঙ্গাব্দ

সাত দল নিয়ে ‘জাতীয় মুসলিম জোট’ এর আত্মপ্রকাশ | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 26-12-2025 ইং
  • 1782536 বার পঠিত
সাত দল নিয়ে ‘জাতীয় মুসলিম জোট’ এর আত্মপ্রকাশ | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: সাত দল নিয়ে ‘জাতীয় মুসলিম জোট

জুলাই চেতনায় নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ: আত্মপ্রকাশ করল ‘জাতীয় মুসলিম জোট’

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এবং আধিপত্যবাদবিরোধী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সাতটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ‘জাতীয় মুসলিম জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।

জোটের শরিক দল ও লক্ষ্য

জাতীয় মুসলিম জোটের শরিক দলগুলো হলো— বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, গণমুক্তি জোট, নাগরিক অধিকার পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম সমাজ, বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি, সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ ও বিএনডিপি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জোটের প্রধান সমন্বয়কারী কাজী আবুল খায়ের, গণমুক্তি জোটের চেয়ারম্যান শাহরিয়ার ইফতেখার ফুয়াদ, নাগরিক অধিকার পার্টির আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান এবং বিএনডিপির চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম লাবু।

জোটের নেতারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল ক্ষমতার পালাবদলের আন্দোলন ছিল না, বরং এটি ছিল রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিকতা ও গুণগত পরিবর্তনের এক গণদাবি। তারা মনে করেন, দেশে গণতন্ত্রের আড়ালে যে পরিবারতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসন জেঁকে বসেছিল, এই অভ্যুত্থান তার ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: আদর্শিক সমন্বয় ও রাজনীতির বাঁকবদল

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে যখন বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ শুরু হয়, তখন থেকেই এদেশের মানুষের মাঝে মুসলিম পরিচয় এবং বাঙালি সত্তার একটি ঐতিহাসিক সমন্বয় বিদ্যমান ছিল। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনেও এই সমন্বয়ের প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় বিভিন্ন শাসনামলে এই পরিচয়কে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।

১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রা শুরু হলেও পরিবারতন্ত্র ও স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে কলুষিত করেছে। ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। ২০২৫ সালে এসে ‘জাতীয় মুসলিম জোট’ এমন এক সময়ে আত্মপ্রকাশ করল যখন দেশ পুনর্গঠনের কাজ চলছে। তারা দাবি করেছেন, এই জোট কেবল কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর স্বার্থকেন্দ্রিক সংগঠন নয়, বরং জ্ঞান, যুক্তি, ন্যায় ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।

জুলাই অভ্যুত্থান ও চিন্তার পরিবর্তন

বক্তারা তাদের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জনগণের ভেতর এক বিশাল চিন্তার পরিবর্তন ঘটিয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে তারা নৈতিকতা ও সামাজিক ভারসাম্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত দীর্ঘ ৭৫ বছরের ইতিহাসে এই জোটের লক্ষ্য যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অগ্রগতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে জোটের নেতারা আরও বলেন, বাঙালি মুসলিম ও অন্যান্য জাতিসত্তার সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই তাদের মূল লক্ষ্য। তারা বিশ্বাস করেন, নাগরিক মর্যাদাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করলেই কেবল একটি টেকসই ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠন সম্ভব।


সূত্র: ১. জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও জোটের ঘোষণাপত্র (২৬ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. জাতীয় মুসলিম জোটের শরিক দলগুলোর যৌথ বিবৃতি। ৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক বিবর্তন বিশ্লেষণ (১৯৫০-২০২৫)।


প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency